ভাস্করের চোখে/৪

থিমে কমল ঠাকুরের মান

বিমল কুন্ডু

এশিয়ান পেন্টস দিয়ে শুরু। তারপর এল আনন্দবাজার পত্রিকা, দ্য টেলিগ্রাফের পুরস্কার। একে একে প্রত্যেক কাগজ কোম্পানিগুলো দিতে শুরু করলো। চ্যানেলগুলিও পিছিয়ে থাকল না। পুরস্কার যত বেড়ে গেল , ততো শিল্পীদের স্বাধীনতা বাড়ল। কারোর যদি কিছু ভাবনা থাকতো , তাকে গবেষণা করার পুরো স্বধীনতা দিত পুজো কমিটি। টাকা-পয়সা সব। এমনকী জায়গাও। শুধু বলত, নতুন কিছু কর। শিল্পীদের মধ্যে একটা আলাদা টেনশন কাজ করত। মনে হত, যদি পুরস্কার না পাই! কমিটি চাইত, আমরা খরচা করবো সব করবো, কিন্তু আমার ঝুলিতে পুরস্কার পড়তে হবে। এই করতে করতে পুজোর কম্পিটিশনও আরো বেড়ে গেল।
একটা সময় দেখলাম, প্রতিমা, মন্ডপ নিয়ে থিম যেমনটা ঠিক সনাতন দিন্দা করত, করত পার্থ, করত ভব, পরবর্তীকালে পেন্টিংয়ের ছেলেরা বা বাইরের ছেলেরা যারা থিম নিয়ে এলো , তারা সেটা পারছে না। কুমোরটুলির কিছু স্পেশালিস্ট ছেলে যেমন নব, তারপর ওদিকে স্বপন , এরা থিমের কাজগুলো করতে লাগলো। থিমের কথা যদি আমরা নাই বুঝি, কমিটি যে ছবিটা দিযে এল, সেই ঠাকুর গড়ে দিল। যার ফলে হলো কি গত ছ-সাত বছরে ঠাকুরে মান গেল খারাপ হয়ে।
যেহেতু থিম শিল্পীদের অনেকেই নিজের হাতে ঠাকুর গড়তে পারে না, তারা অন্যদের উপরে ডিপেন্ড করে। তুমি যতই থিম করো না কেন, মানুষ কিন্তু আসে ঠাকুরটা দেখতে। ঠাকুর টাইতো আসল।
থিম শিল্পীদের মধ্যে তো অনেকই ঢুকেছে, যারা প্রিন্টিংয়ের কাজ করেছে যারা কমার্শিয়াল কাজ করেছে, যারা কর্পোরেট হাউসে কাজ করত, তাদের অনেকে অসাধারণ ইনস্টলেশন তৈরি করল কিন্তু ঠাকুরের ক্ষেত্রে তারা গুরুত্ব দেয়নি। ঠাকুর ঠিক কেমন হবে সেটা তারা বোঝাতেও পারেনা। সে একটা ড্রইং করে নিয়ে এটা থেকে ওটা থেকে ঠাকুরটাকে দাঁড় করিয়েছে। মন্ডপে দেখা গেল ঠাকুর ম্যাচ করছেনা।
একবার সুরুচি সঙ্গে নব পাল ঠাকুর করেছিল কি খারাপ ঠাকুর! মন্ডপে মানায়নি এক্কেবারেই। আমি নবকে সেটা বললাম। ও বলল, আমাকে যা দিয়েছে, আমি তাই করেছি। দেখা গেল আমি কনস্ট্রাকশন থিমটা ভালো বুঝি কিন্তু ঠাকুরটা ঠিক বুঝিনা। ঠাকুরের ছবি নিলাম ঠাকুর টা ঠিক করে দিলাম। তার মধ্যে অনেকেই জাগলিং করতে চায়। অনেকে অনেক ভালো কাজ করেছে‌ হাতিবাগানে মোষের শিং দিয়ে যে কাজটা করেছে খুব ভালো কাজটি করেছে। এই কাজই মানুষ কিন্তু দেখতে চায়। চালাকির দ্বারা মহৎ কার্য হয় না।
(শেষ)

Share